বৃহস্পতিবার । ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১৩ই ফাল্গুন, ১৪৩২

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেয়া হবে না: যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক পথকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তবে প্রয়োজন হলে সামরিক পথে হাঁটার পথও খোলা রয়েছে।

ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে ‘যতটা সম্ভব স্পষ্ট অবস্থানে আছেন’। আর তা হচ্ছে— ‘ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না’।

তিনি বলেন, ‘যদি তিনি সেই পথ বেছে নেন, তবে সেটাই হবে চূড়ান্ত সামরিক লক্ষ্য। তবে প্রেসিডেন্ট যেমন বলেছেন, আমরা কূটনৈতিক পথেই এটি অর্জনের চেষ্টা করছি। বিষয়টি খুবই সরল; বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক ইরান যেন পারমাণবিক সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিশ্বকে হুমকি দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

ভ্যান্সের মতে, অধিকাংশ আমেরিকানই মনে করেন ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দেয়া উচিত নয়। তিনি এটিকে জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আলোচনা চলমান থাকলেও প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে ট্রাম্প প্রস্তুত আছেন। ভ্যান্সের ভাষায়, ট্রাম্প ‘কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করবেন’, তবে এটি (ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র) ঠেকাতে তার হাতে ‘আরও নানা উপায়’ রয়েছে।

ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফায় ইতোমধ্যেই পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় বসেছেন। ভ্যান্স বলেন, তিনি আশা করেন ইরান এই আলোচনা ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ নেবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে অপসারণের চেষ্টা করা হতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স কোনও জল্পনায় যাননি।

তিনি বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে জন্য কোন পথ উপযুক্ত হবে তা শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পই নির্ধারণ করবেন।

ভ্যান্স বলেন, ‘একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাতে আমরা ইরানিদের সঙ্গে আরেক দফা কূটনৈতিক আলোচনায় বসছি। কিন্তু সেই সমঝোতার লক্ষ্য কী? ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না, বিষয়টি খুবই সাধারণ’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি সামরিক পদক্ষেপ ছাড়াই ভালো সমাধানে পৌঁছাতে পারব। তবে প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্টের সামরিক শক্তি ব্যবহারের অধিকারও রয়েছে।’

সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস) প্রশাসক মেহমেত ওজের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। তবে এরপর ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর সক্ষমতা ‘পুনর্গঠনের’ চেষ্টা করছে বলে তারা প্রমাণ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘তারা যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তা আমাদের জন্য সমস্যা তৈরি করবে। বাস্তবে আমরা এমন প্রমাণও দেখেছি যে তারা ঠিক সেটাই করার চেষ্টা করেছে।’

এর আগে গত মঙ্গলবার ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম।

তবে বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ‘প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির’।

খুলনা গেজেট/এমএনএস




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন